তীব্র গরমের সঙ্গে ইন্টারনেট সমস্যায় গ্রাহকরা চরম অস্বস্তিতে: বিএমপিসিএ

গরমের মাত্রা যখন ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাচ্ছে তখন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবার অনলাইনে ক্লাস করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে গত শুক্রবার রাত তিনটা থেকে ইন্টারনেট ভোগান্তি বিশেষ করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নেই বললেই চলে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে। রেশন ইন করে ব্যান্ডউইথ সরবরাহের কারণে প্রান্তিক পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে না বলে গ্রাহকরা এরইমধ্যে অভিযোগ জানাচ্ছেন।


ইন্টারনেট ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।
ইন্টারনেট ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। সংগৃহীত ছবি

রোববার (২১ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রাহক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিসিএ)।

 

এতে বলা হয়, কুয়াকাটায় স্থাপিত দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলটি (সি-মি-উই-৫) সিঙ্গাপুর প্রান্তে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত বারোটার দিকে বিচ্ছিন্ন হয়। ফলে ওই সময় থেকে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল থেকে কোন ব্যান্ডউইথ সরবরাহ হচ্ছে না। বাংলাদেশকে সাগরের তলদেশ দিয়ে সংযুক্ত সব ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের মাধ্যমে সঞ্চালিত ১ হাজার ৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশজুড়ে ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং ব্যাপকভাবে পিং লস হচ্ছে।

দেশের ইন্টারনেট সেবা এখন চলছে সি-মি-উই-৪ এবং ইন্টারন্যাশনাল টেরিসট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) সংযোগ দিয়ে। বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত বেনাপোল ও হরিদাশপুর সীমান্ত দিয়ে স্থলপথ সংযোগে। মোবাইল অপারেটরদের স্পেকট্রাম এবং বিটিএস ব্যবহার করার কারণে মোবাইলে ইন্টারনেট গতি কম থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট একেবারেই নেই।
 
দ্রুত ইন্টারনেট সমস্যা সমাধান না করা গেলে এই গরমে ঘরে বসে কাজ করার যে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এবং অনলাইনে ক্লাস করার জন্য যে নির্দেশনা, তা বাস্তবায়ন করা মোটেও সম্ভব না। অনেক শিল্প কলকারখানা ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসা কেন্দ্র ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল।
 
এমনকি মোবাইল অপারেটররাও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করে থাকে। তাই দ্রুত এর সমাধান করা অগ্রাধিকার এবং জরুরি ভিত্তিতে করা আবশ্যক বলে জানিয়েছে বিএমপিসিএ। কারণ ইন্টারনেট এখন নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং অতি জরুরি সেবার মধ্যে অন্যতম।


Post a Comment

Previous Post Next Post