সারাদেশের তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এসময় বাইরে বের হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতিসহ বিধি-নিষেধ মানার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
 |
| তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। |
মানবদেহের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পেরিয়ে গেলেই হতে পারে হিটস্ট্রোক। এখন পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে হিটস্ট্রোকে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব কিছু বিবেচনা করে আবহাওয়া অফিস ১৮ এপ্রিল থেকে ৩ দিনের হিট অ্যালার্ট জারি করেছে।
হিট অ্যালার্ট কী? কেন জারি করা হয়?
হিট ওয়েভ বা তাপপ্রবাহ হলো অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া। আর এই তাপপ্রবাহ সম্পর্কে যে সতর্কতা জারি করা হয় সেটাই মূলত হিট অ্যালার্ট বা হিট ওয়েভ অ্যালার্ট। তাপপ্রবাহ চরম মাত্রায় বাড়লে আরও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়। তাছাড়া মানুষের সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে হতে পারে মৃত্যুর কারণ। তাই সবাইকে আসন্ন তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই হিট অ্যালার্ট জারি করে থাকে আবহাওয়া অধিদফতর।
মানবদেহে অতি তাপপ্রবাহের প্রভাব
অতি তাপপ্রবাহের ফলে মানুষ হিটস্ট্রোক করে মারা যেতে পারে। দেহের পানির পরিমাণ কমে গিয়ে হতে পারে ডিহাইড্রেশন বা পানি শূন্যতা। এছাড়াও এসময় অন্যান্য অনেক রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়। তাই সব মিলিয়ে তাপপ্রবাহের সময় সুস্থ থাকতে হলে প্রয়োজন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন-যাপন।
এছাড়া অতি তাপপ্রবাহে মানুষের শরীরও অস্বাভাবিক গরম হয়ে যায়। ফলে রক্ত চাপ কমে যেতে পারে এবং সারা শরীরে তখন রক্ত সঞ্চালন করা হৃদপিণ্ডের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শরীর ক্লান্ত লাগা, ত্বকে ফুসকুড়ি পড়া, চুলকানি এবং পা ফুলে যাওয়া নিয়মিত উপসর্গ হিসেবে ধরা হয় তীব্র তাপপ্রবাহের ক্ষেত্রে।
পাশাপাশি প্রচুর ঘাম হওয়ার কারণে শরীরের তরল পদার্থ ও লবণের পরিমাণ কমে যায়, গুরুতর ক্ষেত্রে দেহে এসব তরল উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমে ডিমেনশিয়া রোগও দেখা দিতে পারে।
কী করা উচিত হিট অ্যালার্টের সময়?
বিশেষজ্ঞরা হিট অ্যালার্ট জারি হলে বাইরে প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে বের হলে, হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে। রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন বা ত্বক সুরক্ষার কোনো উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। ধুলোবালির প্রকোপ থেকে বাঁচতে মাস্ক পরতে হবে। চোখে সানগ্লাস দিতে হবে। ছাতা ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন এসময়। তবে সেক্ষেত্রে কালো রঙের ছাতা ব্যবহার না করাই ভালো।
এছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুস্থ থাকতে হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে। লেবুর শরবত, স্যালাইন এবং পানীয় সমৃদ্ধ ফল ও সবজি খেতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল ও মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে।
রাস্তায় চলার পথে ক্লান্তি বোধ বা অসুস্থ বোধ হলে ডাবের পানিও পান করতে পারেন। একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক মাহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘ডাবে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা এ তীব্র গরমে যেকোনো ডায়রিয়া বা বমিজনিত কিংবা যেকোনো পানি স্বল্পতায় খুবই উপকারী। তাই রোগীদের সবসময়ই ডাব খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।’ তবে ডাবের পানিতে থাকা সোডিয়াম শরীরে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের সপ্তাহে একদিনের বেশি ডাবের পানি পান না করার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।
পাশাপাশি প্রচণ্ড গরম থেকে ফিরে, হঠাৎ করেই ঠান্ডা পানি পান না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে শীতল বা ঠাণ্ডা স্থানে নিজেকে বিশ্রাম দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, দীর্ঘক্ষণ গরম স্থানে থাকার ফলে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে চলে গেলেই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে থাকে।
শরীরে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের তাপমাত্রায় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি সর্বোচ্চ। এসময় মাথা ঝিমঝিম করা, বমি, ক্লান্তি ও দুর্বলতা, মাথাব্যথা, মাংসপেশির খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। তাছাড়া রোগী চোখে ঝাপসাও দেখতে পারেন।
إرسال تعليق